2014 - বর্ষ বিদায়
(বর্তমান বর্ষের কবির শেষ কবিতা)
সময়ের কাঁটা ঘোষিছে চৌদিকে, শোন বিশ্ববাসীগণ;
পুরাতন বর্ষ যাবে চলে শেষে, নববর্ষের আগমন।
আজিকার দিন যাবে কেটে শেষে, কিছু ঘণ্টা পরে,
পুরাতন বর্ষ লইবে বিদায়, সময়ের হাত ধরে।
দেয়ালে টাঙানো ক্যালেণ্ডারে লাস্যময়ী এক ছবি,
কপালেতে তার শোভিছে যে টিপ, ঠিক যেন ভোরের রবি।
হাসিভরা মুখ সয়েছে সুখদুখ, বিষাদে আজি মলিন,
কাল হতে হবে, গৃহহারা সেযে,
ঠাঁই হবে ডাস্টবিন।
সযতনে রাখা ফুলদানি সব, শুধু মনে মনে ভাবে;
সব কিছুর স্মৃতি, মন থেকে
সবার, চিরতরে মুছে যাবে।
এমনি করেই হয়ে গেছে পার, বহু পুরাতন বর্ষ,
বিদায় বেলায়, হারায় হেলায়,
সবাকার সংস্পর্শ।
স্মৃতির আয়নায়, ধুয়ে মুছে যায়,
পুরোনো দিনের স্মৃতি,
মনের গভীরে, ছন্দে ও সুরে,
বাজে বর্ষ বিদায় গীতি।
আঁধার কথা বলে
বাঁশবাগানের
পাতার ফাঁকে, সোনার রবি উঠিছে।
তারই আলোয়
ঝলমলিয়ে,
বিশ্বভুবন হাসিছে।
টেবিলে রাখা
সংবাদপত্র, গরম চায়ের কাপ,
ঘড়ির কাঁটা
ঘড়িতে বাঁধা, সময় যে চুপচাপ।
পসরা মাথায়
চলেছে সবাই, রবিবারের হাটে,
সাদা বলাকা
উড়ায় পাখা, শূণ্য নির্জন মাঠে।
ছায়া সুনিবিড়, প্রাচীন বট এক, গাঁয়ের সীমানায়,
তাহারি শাখায়, সুখে নীড় বাঁধি, পাখিরা গান গায়।
চিল ফুকারে, আকাশ পারে, মাঠে মাঠে সোনা ধান,
মেঠো পথে
একতারা হাতে, বেণী বাউল গায় গান।
গরুর গাড়ি
উড়ায় ধূলো, গাঁয়ের রাঙা মাটির পথে,
রাখাল বাজায়
রাখালিয়া সুর, বাঁশি লয়ে নিজ হাতে।
মাটির কুটিরে
কাঠের ধোঁয়া, ঘুরে ফিরে পাড়াময়।
দিনের শেষে
সূর্য লুকায়, সাঁঝের আঁধার কথা কয়।