Wednesday, 31 December 2014

2014 - বর্ষ বিদায় 
(বর্তমান বর্ষের কবির শেষ কবিতা)


সময়ের কাঁটা ঘোষিছে চৌদিকেশোন বিশ্ববাসীগণ;
পুরাতন বর্ষ যাবে চলে শেষে, নববর্ষের আগমন
আজিকার দিন যাবে কেটে শেষে, কিছু ঘণ্টা পরে,
পুরাতন বর্ষ লইবে বিদায়, সময়ের হাত ধরে
দেয়ালে টাঙানো ক্যালেণ্ডারে লাস্যময়ী এক ছবি,
কপালেতে তার শোভিছে যে টিপ, ঠিক যেন ভোরের রবি
হাসিভরা মুখ সয়েছে সুখদুখ, বিষাদে আজি মলিন,
কাল হতে হবে, গৃহহারা সেযে, ঠাঁই হবে ডাস্টবিন
সযতনে রাখা ফুলদানি সব, শুধু মনে মনে ভাবে;
সব কিছুর স্মৃতি, মন থেকে সবার, চিরতরে মুছে যাবে
এমনি করেই হয়ে গেছে পার, বহু পুরাতন বর্ষ,
বিদায় বেলায়, হারায় হেলায়, সবাকার সংস্পর্শ
স্মৃতির আয়নায়, ধুয়ে মুছে যায়, পুরোনো দিনের স্মৃতি,
মনের গভীরে, ছন্দে ও সুরে, বাজে বর্ষ বিদায় গীতি। 


           আঁধার কথা বলে

বাঁশবাগানের পাতার ফাঁকে, সোনার রবি উঠিছে
তারই আলোয় ঝলমলিয়ে, বিশ্বভুবন হাসিছে
টেবিলে রাখা সংবাদপত্র, গরম চায়ের কাপ,
ঘড়ির কাঁটা ঘড়িতে বাঁধা, সময় যে চুপচাপ

পসরা মাথায় চলেছে সবাই, রবিবারের হাটে,
সাদা বলাকা উড়ায় পাখা, শূণ্য নির্জন মাঠে
ছায়া সুনিবিড়, প্রাচীন বট এক, গাঁয়ের সীমানায়,
তাহারি শাখায়, সুখে নীড় বাঁধি, পাখিরা গান গায়

চিল ফুকারে, আকাশ পারে, মাঠে মাঠে সোনা ধান,
মেঠো পথে একতারা হাতে, বেণী বাউল গায় গান
গরুর গাড়ি উড়ায় ধূলো, গাঁয়ের রাঙা মাটির পথে,
রাখাল বাজায় রাখালিয়া সুর, বাঁশি লয়ে নিজ হাতে

মাটির কুটিরে কাঠের ধোঁয়া, ঘুরে ফিরে পাড়াময়
দিনের শেষে সূর্য লুকায়, সাঁঝের আঁধার কথা কয়

Sunday, 28 December 2014


বাংলা আমার মা
বাংলা আমার, ভাষা আমার
বাংলা আমার গান
বাংলা আমার, খুশির জোয়ার,
বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা মায়ের মাটিতে ফলে,
নতুন সোনার ধান,
বাংলা মাটির ফুল ও ফলে
সবুজ মাটির ঘ্রাণ।

বাংলা আমার, মাটি আমার,
সেই মাটি আমার মা।
বাংলা মায়ের এমন স্নেহ,
কোথাও পেলাম না।

বাংলা আমার, মাটি সোনা
সবুজ গাছের ছায়া,
বাংলা মায়ের স্নেহধারায়
পাই মমতা, মায়া।

বাংলার গাছে, মৌমাছি এসে
নিত্য রচে মৌচাক,
বাংলার মুক্ত আকাশে ভাসে
শংখ চিলের ডাক।


মা আমার, মাটি আমার,
বাংলা আমার মা।
বাংলার জলে, গঙ্গা ভাসে,
পদ্মা আর মেঘনা।

এপার বাংলা, ওপার বাংলা,
মোরা বাংলা ভালবাসি।
বারবার যেন এই বাংলায়,
আবার ফিরে আসি।



























Monday, 22 December 2014


কবিতা লিখে যাই        

শুধু একটুখানি আশা,
একটু শুধু ভালবাসা,
জীবনকে করে মধুময়।
ভালবাসা শুধু আশা
কবিতার ভালবাসা
সুর ছন্দ তাল আর লয়।
হৃদয় ও মনের গহনে
প্রাণের নব স্পন্দনে
যে ভাষা শুনিতে পাই।
হৃদয়ে প্রকাশের ভাষা
মনে জাগে নব আশা,
শুধু কবিতা লিখে যাই।


               কবিতার ভালবাসা

হৃদয়বীণার তারে
যে সুরের ঝংকারে,
                 জাগে মনে নিত্য নব আশা।

নীরব মনের গহনে,
স্তব্ধ প্রানের স্পন্দনে
                 কথা বলে কবিতার ভাষা।

জীবনের শূণ্য খাতায়
কবিতার পাতায় পাতায়,
                  লেখা আছে কত হাসি গান।

ফুলের বনে বনে,
মধুকরের গুঞ্জনে,
                  আকাশে ভাসে ঐক্যতান।

এ জীবন মধুময়,
যেন এক কিশলয়,
                  জীবন নিশার স্বপন সম।

ছন্দে প্রকাশের ভাষা
কবিতার ভালবাসা

                  চিত্তে জাগায় আশা মম। 

Friday, 19 December 2014

নদীর গান (লোককবিতা ও লোকগীতি)

নদীরে... ...ওরে নদী রে!
কেন রে তুই আপন মনে,
ভেসে চলিস স্রোতের টানে?
( তোর) জলের ধারা প্রবলবেগে ছুটে সাগর পানে

গ্রীষ্মে জল থাকে না, নদী শীর্ণকায়,
মানুষজন হাঁটুজলে, পার হয়ে যায়

কেন রে তুই আপন মনে,
ভেসে চলিস স্রোতের টানে?
( তোর) জলের ধারা প্রবলবেগে ছুটে সাগর পানে

বর্ষায় আসে জোয়ার, উথাল পাথাল পানি,
মাঝ দরিয়ায় উঠলে তুফান, ডুববে তরীখানি

কেন রে তুই আপন মনে,
ভেসে চলিস স্রোতের টানে?
( তোর) জলের ধারা প্রবলবেগে ছুটে সাগর পানে
  নদীরে... ...ওরে নদী রে!

শরতের সোনালী রোদ, পড়ে নদীর কূলে,
দুই ধারে কাশের বন, ভরা কাশফুলে

কেন রে তুই আপন মনে,
ভেসে চলিস স্রোতের টানে?
( তোর) জলের ধারা প্রবলবেগে ছুটে সাগর পানে
নদীরে... ...ওরে নদী রে!

হেমন্তে নদীর কুলে হিমেল হাওয়া বয়,
নদীর জলে রাতের জোছনা শীতল হয়ে রয়

কেন রে তুই আপন মনে,
ভেসে চলিস স্রোতের টানে?
( তোর) জলের ধারা প্রবলবেগে ছুটে সাগর পানে
নদীরে... ...ওরে নদী রে!

পৌষমাসের শেষে মেলা, বসে নদীর কূলে
সংক্রান্তিতে মকরস্নান, শীতের সকালে

কেন রে তুই আপন মনে,
ভেসে চলিস স্রোতের টানে?
( তোর) জলের ধারা প্রবলবেগে ছুটে সাগর পানে
নদীরে... ...ওরে নদী রে!

বসন্তে বনে ফুল ফোটে, মনে রং ধরে
একা নদী বসে কাঁদে, নদীর বালুচরে

কেন রে তুই আপন মনে,
ভেসে চলিস স্রোতের টানে?
( তোর) জলের ধারা প্রবলবেগে ছুটে সাগর পানে
নদীরে... ...ওরে নদী রে!