Sunday, 30 November 2014

কবিতার ভালবাসা

হৃদয়বীণার তারে
যে সুরের ঝংকারে,
             জাগে মনে নিত্য নব আশা।

নীরব মনের গহনে,
স্তব্ধ প্রানের স্পন্দনে
               কথা বলে কবিতার ভাষা।

জীবনের শূণ্য খাতায়
কবিতার পাতায় পাতায়,
              লেখা আছে কত হাসি গান।

ফুলের বনে বনে,
মধুকরের গুঞ্জনে,
               আকাশে ভাসে ঐক্যতান।


এ জীবন মধুময়,
যেন এক কিশলয়,
                জীবন নিশার স্বপন সম।


ছন্দে প্রকাশের ভাষা
কবিতার ভালবাসা

                চিত্তে জাগায় আশা মম। 

Saturday, 29 November 2014


ঊর্মিলা

ঊর্মিলা-রামায়ণে বর্ণিত
লক্ষ্মণের বধূ তুমি নহ,
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।

ঊর্মিলা- আজ চৌদ্দটা বছর,
তোমার সাথে হয়নি কথা বলা।
তোমায় রেখে এসেছি একেলা।
জানি, তোমার বড় কষ্ট হয়,
জানি, তোমার জীবন বড় দুর্বিসহ।
ঊর্মিলা-রামায়ণে বর্ণিত
লক্ষ্মণের বধূ তুমি নহ,
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।

ঊর্মিলা- তোমার হৃদয় সাগরে,
আমি দেখেছি হাজার হাজার ঊর্মিমালা।
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।

তোমার কালো চোখে দেখেছি
আমি অমানিশার নিকষ কালো আঁধার।
পূর্ণিমার রাতে, আকাশে চাঁদ ওঠে।
ঘুম আসে না দু’চোখে তোমার।
ঊর্মিলা- তোমার বুকভরা ভালবাসা
আমার জীবনে এক দুঃসহ জ্বালা,
ঊর্মিলা-রামায়ণে বর্ণিত
লক্ষ্মণের বধূ তুমি নহ,
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।
ঊর্মিলা- তোমার জলভরা দুটি চোখ
আমাকে আজও কাঁদায়-শুধু কাঁদায়।
তুমি নীরবে সয়েছো কত অবিচার, অন্যায়।
তোমার হৃদয়কমল আজও চির উজ্জ্বল
কঠোর ত্যাগের অমর মহিমায়।
ঊর্মিলা-রামায়ণে বর্ণিত
লক্ষ্মণের বধূ তুমি নহ,
তুমি শুধু ঊর্মিলা-আমার ঊর্মিলা।

সুখ দুঃখভরা পৃথিবীতে ঊর্মিলারা
আজও হেসে খেলে বেড়ায়।
ত্যাগের মহিমায় ওরা আজও
বেঁচে আছে কবিতার পাতায়।
জীবন মহাকাব্যের শাখা-প্রশাখায়।




Wednesday, 26 November 2014

সাজানো সংসার গেল ভেসে

প্রিয় আজ আর নেই,
প্রিয় হারিয়ে গেছে,
প্রিয়ার চোখে জল,
সাজানো সংসার গেল ভেসে

ছন্দহারা পৃথিবী মায়াবী রাতে
তাই একেলা শুধু কাঁদে
জোছনা মরে গেছে
রাতের আকাশে চাঁদ ওঠে নি
অজস্র তারারা মিটিমিটি করে জ্বলে
ঝিঁ ঝিঁ পোকারা কথা বলে,
জোনাকিরা শুধু অন্ধকারে জ্বলে
প্রিয় আজ আর নেই,
প্রিয় হারিয়ে গেছে,
প্রিয়ার চোখে জল,
সাজানো সংসার গেল ভেসে

দিঘিতে ফোটে নি পদ্ম শালুক,
না ফোটা ফুলের কুঁড়িগুলো সব
সব অভিমানে গেছে ঝরে
প্রিয় বিরহে কাতরা যুবতীর
দুনয়নে আজও জল ঝরে
প্রিয় আজ আর নেই,
প্রিয় হারিয়ে গেছে,
প্রিয়ার চোখে জল,
সাজানো সংসার গেল ভেসে

ফুটফুটে ছোট্ট কচি মেয়েটা
আজও তার বাবাকে খুঁজে পেতে চায়
যাকে চায়, তাকে পায় না
না পাওয়ার ব্যথা তাকে দেয় সান্ত্বনা
হায়রে অবোধ কচি শিশুমন!
মায়ের কাছে আবদান যখন তখন,
মা বাবা কবে আসবে?
প্রিয় আজ আর নেই,
প্রিয় হারিয়ে গেছে,
প্রিয়ার চোখে জল,
সাজানো সংসার গেল ভেসে






















Tuesday, 25 November 2014

শ্মশানে চিতাবহ্নি জ্বলে

শ্মশানে চিতাবহ্নি জ্বলে,
মিছেই কাঁদ নয়ন জলে,
জগ মাঝারে সে তো নাই
পৃথিবীর সকল মায়া,
নীরবে সব ত্যাগ করিয়া,
স্বর্গে পেয়েছে সে ঠাঁই
মিছে কেন ভাব মন,
এ জীবন নিশার স্বপন,
দিনের শেষে সূর্য অস্ত যায়
সুখ, শান্তি, ভালবাসা,
দুঃখ, ব্যথা, কাঁদা, হাসা,
চিতাবহ্নিতে সকলি মিলায়
দুদিনের আসা যাওয়া,
সবকিছুর চাওয়া পাওয়া,
নিমেষে নিঃশেষ হয়ে যায়
সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে,
ব্যথাভরা মন নিয়ে,
পৃথিবী হতে নেয় চিরবিদায়
ঐ যে জ্বলন্ত চিতা
উঠিছে যে বহ্নিশিখা,
দিগন্ত লাল হয় রক্তিম আভায়
কবির মনে দারুণ আশা,
নীরব মনের ভালবাসা,
দেহ মন পুড়ুক চিতার বহ্নিশিখায়





















শ্মশানে জ্বলছে চিতা

শ্মশানচিতায় জ্বলছে
আমার কবিতা
শ্মশান চিতা নিয়ে
কবির জ্বলন্ত এক কবিতা
শ্মশানের চিতা- আমার কবিতা,
শ্মশানের চিতা- আমার সীতা,
শ্মশানের চিতা- আমার গীতা
শ্মশানের চিতা- আমার বাইবেল, আমার কোরাণ,
শ্মশান চিতায়- আমি দেখেছি সেথায় মৃত্যুরূপী ভগবান
কবিতার পাতায় বন্দিনী কবিতারা কথা বলে
শ্মশানচিতায় মৃত শবেরা আর্তনাদের ঝড় তোলে
কংকালে কংকালে দেশটা গেছে ছেয়ে
প্রকাশ্য রাস্তায় মড়ার মিছিল, কালো পতাকা হাতে নিয়ে
আসছে এবার কালো দিন,
শবে শবে আজ শব্দের ঝংকার, শোধ কর মৃত্যুঋণ
ওগো মৃত্যুরূপী ভগবান,
আমার কবিতায় মৃত্যুঞ্জয়ী মন্ত্রে সবারে করি আহ্বান
আমি পৃথিবীর মহাভয়,
শ্মশানের চিতাভস্ম সর্বাঙ্গে মাখি, হয়েছি মত্যুঞ্জয়
মৃত্যুঞ্জয়ী মন্ত্রে আমি মৃত্যুকে করেছি জয়,
তাই আজি মৃত্যুকে করিনা ভয়
আমি রব চিরদিন বেঁচে,
বিধির ললাট লিখনে আমার মরণ
আমি চিরতরে দেব মুছে
শ্মশানে জ্বলছে চিতা
শ্মশানের চিতা নিয়ে আমার কবিতা
কবির জ্বলন্ত এক কবিতা
























জীবন-মরণ

জীবন মানে চলমান সময়ের
ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা,
জীবন মানে কণ্টকাকীর্ণ পথে
পায়ে পায়ে পথ চলা
জীবন মানে হৃদয় কাননে
পবিত্র হৃদয় কমল ফোটা
জীবন মানে কান্না, ঘাম, রক্ত
নয়নের অশ্রুজল দুফোটা
মরণ মানে চলমান
জীবনের অবরুদ্ধ পথ
মরণ মানে হঠাৎ কখন
থমকে যাওয়া রথ
মরণ মানে অসতর্ক মূহুর্ত,
জীবনের শেষ অধ্যায়;
মরণ লেখা আছে সবার
জীবন খাতার পাতায়


Sunday, 23 November 2014

সোনার কাঠি রুপোর কাঠি

স্বপ্নে দেখা রাজকন্যে
বলছে আমার কানে,
ছন্দে, সুরে, কথা আর
ভালবাসার গানে।

ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখি রাতে,
দেখা হলো রাজকন্যের সাথে।

কুচ বরণ কন্যা তার
কালো বরণ চুল,
কানে তার ঝুমকো লতা
খোঁপায় চাঁপা ফুল।

গলায় তার গজমোতির হার,
পায়ে নুপুর আহা! কি বাহার!

হঠাৎ আমি চমকে উঠি
দেখি ঘুমের মাঝে।
রাক্ষস খোক্কস এগিয়ে এসে
বসল আমার কাছে।

ভয়েতে মোর কাঁপছে দেহখানা
রাক্ষসদের সামনে যেতে মানা।

সোনার কাঠি, রুপোর কাঠি
ছিল আমার হাতে,
ঠেকিয়ে দিতেই রাক্ষস দুটো
আমায় এলো খেতে।

আমি বলি শোনরে রাক্ষস খোক্কস
সামনে আয় দেখি তোদের সাহস,

সোনার কাঠি, রুপোর কাঠি
আবার ছুইয়ে দিতে,
রাক্ষস দুটো রক্ত মুখে
লুটিয়ে পড়ে মাটিতে।

আমি তখন রাজকন্যে নিয়ে,
অতি সত্বর এলাম পালিয়ে।

পেরিয়ে এলাম তেপান্তরের মাঠ
সাত সমুদ্র তেরো নদীর পার,
সোনার কাঠি ও রুপোর কাঠি
আজও সাথে রয়েছে আমার।




Saturday, 22 November 2014

জীবন-মরণ

জীবন মানে চলমান সময়ের
ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা,
জীবন মানে কণ্টকাকীর্ণ পথে
পায়ে পায়ে পথ চলা।

জীবন মানে হৃদয় কাননে
পবিত্র হৃদয় কমল ফোটা।
জীবন মানে কান্না, ঘাম, রক্ত
নয়নের অশ্রুজল দু’ফোটা।

মরণ মানে চলমান
জীবনের অবরুদ্ধ পথ।
মরণ মানে হঠাৎ কখন
থমকে যাওয়া রথ।

মরণ মানে অসতর্ক মূহুর্ত,
জীবনের শেষ অধ্যায়;
মরণ লেখা আছে সবার
জীবন খাতার পাতায়।

পৃথিবীর পান্থশালায়

দু’দিনের এই পান্থশালায়
কেহ আসে কেহ চলে যায়,
                   হাসি কান্নার দিন শেষ হয়।

কেহ কাঁদে, কেহ হাসে
কেহ আঁখিজলে ভাসে,
                     ঘরে ফিরে যাবার সময়।

দু’দিনের এই ভবের হাটে
মিথ্যার মেঘে বেলা কাটে,
                         সত্যিকথা বলতে লাগে ভয়।

মায়ার এই সংসার,
সর্বনাশা কাল ঝড়,
                      তিলে তিলে জীবনের ক্ষয়।

সুখ শান্তি ভালবাসা,
মিছে সবে করে আশা,
                       মনে জাগে দারুণ সংশয়।

শোক তাপ ব্যাধি জরা,
হৃদয়বীণা বিদীর্ণ করা,
                         প্রতি পলে আনে মৃত্যুভয়।

না ফোটা ফুলের কান্না

পূবের আকাশে নেমেছে কুয়াশা
দূরে ধোঁয়াময় বাঁশঝাড়,
দিঘির জলে না ফোটা পদ্মের
আর্তনাদের উঁচু পাহাড়।

অলস, অবশ, বিষণ্ণ দুপুর,
শুয়ে আসে নাকো ঘুম,
সূর্য্যি ডোবে, আঁধার নামে
রাতি হয়ে আসে নিঝুম।

না ফোটা ফুলের কুঁড়িগুলো সব
দুর্বিসহ ব্যথায় জাগে,
গোলাপফুলের পাপড়িতে আজ
শীতের আমেজ লাগে।

কুকুর, বেড়াল শীতে কাঁপে,
মাঝরাতে শেয়াল ডাকে।
দিঘির জলে পদ্মপাতায়
রাতের শিশির জমে থাকে।

শীতের রাতে ঘুমায় সাগর,
বিশ্বের বরফে ঢাকা প্রান্ত।
রাতের আকাশে চাঁদ ও তারা
সারারাত জেগে থাকে অবিশ্রান্ত।

জোছনারাতে কত শত ছায়া
দিতে চায় পাড়ি চাঁদে।
না ফোটা ফুলের কুঁড়িগুলি সব
শীতের রাতে একা কাঁদে।

Tuesday, 18 November 2014

   আমার কবিতা

আমার লেখা, আমার কবিতা
আমার কাব্য, আমার কথা,
আমার হাসি, আমার গান,
আমার বেদনার নীরব অভিমান

আমার ব্যথার সতত ব্যথী
সুখদুঃখের নিত্য সাথী,
আমার কবিতা, শুধু কবিতা,
আমার কাব্য, আমার কথা

পৃথিবীর রং ঘন ঘন বদলায়
আমার লেখায়, আমার কবিতায়
প্রাণে আর মনে শিহরণ জাগায়,
ক্ষুধিত পাষাণের অশ্রু ঝরায় 

লিখবো না আর, কবিতা এবার,
নতুন করে আবার কাব্য লেখার
হৃদয়ে স্পন্দন জাগুক সবাকার;
কঠিন শব্দের লালিত্য ঝংকার

কাব্যের কড়া হাতুড়ির আঘাতে,
বার বার বিপন্ন কবিতা আমার
মনের গহনে হৃদয়ের স্পন্দন
বিদ্রোহী আজ কবিতা আমার

বিদ্রোহ আজ কবিতার পাতায়
দিকেদিকে বিদ্রোহ দেয় ডাক
গর্জে উঠুক সহস্র কামান
তবুও কবিতা আমার বেঁচে থাক